শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

জুপিটার জয়প্রকাশ - নান্টু ঘটক ও কাছিম কাহিনী

বাংলা অনলাইনের পুরনো বান্দাদের অনেকের কাছে একটি পরিচিত নাম - জুপিটার জয়প্রকাশ। বিদ্রূপাত্মক ব্যঙ্গরচনা লিখতেন তখন। কখনও-সখনও প্যারোডি কবিতা। অবশ্য তাঁর সেই সক্রিয়তা সাম্প্রতিককালে স্তিমিত। তবে কিছুদিন আগে তিনি তাঁর একটি ছড়া-সংকলন প্রকাশের আগ্রহ জ্ঞাপন করলে ধর্মকারী তাতে সানন্দ সম্মতি জানায়। আজ, কাল্পনিক যিশুর কল্পিত জন্মবার্ষিকীর একটু আগে, বইটির জন্ম হচ্ছে। লেখক তাঁর নিজের কথা এভাবে বলেছেন:

আমার গামছা যেন সপ্তম স্বর্গের রুমাল
আমার পুরোনো জামা দেবতার বিজয় নিশান
আমার পকেটে ফুটো, যেন দ্বার খোলা আসমান
আমার অশ্রাব্য গালি, তারও মাঝে আছে সুর-তাল।

পরনিন্দুকের দল নিন্দা করে শ্রান্ত হয়ে যাক
আমার কাব্যের স্রোতে ভরে দেব এভিরিহোয়্যার
কবিতায় ধুয়ে যাবে ঘামে ভেজা আন্ডারওয়্যার
তারই ছন্দের সাথে তাল দেবে তেরে-কেটে-তাক।

আমি এক পৃথিবীর কবি, তবু পরিচিত নই
নামে কী বা এসে যায়? কর্মেই সবার পরিচয়
সুকর্মে সুনাম পেতে লাগে যদি অধিক সময়
গালি দিয়ে অধিকার কেড়ে নিতে কভু ভীত নই।

অভিনব ও চমকপ্রদ এই ছড়া-ইবুকটি বানিয়েছেন নরসুন্দর মানুষ। আর প্রচ্ছদ করে দিয়ে ধন্যবাদার্হ হয়েছেন কবি

ফরম্যাট: পিডিএফ
সাইজ: ০.৮ মেগাবাইট
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/gC8c5Y
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/OeEpTu

অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শনও এমবেড করা হলো নিচে:

শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

হজরত মহাউন্মাদ ও কোরান-হাদিস রঙ্গ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যে বেদ্বীন, বে-ঈমান্দার বান্দা ধর্মকারী থেকে প্রকাশিত প্রথম কুফরী কিতাব হজরত মহাউন্মাদ ও কোরান-হাদিস রঙ্গ-এর সমস্ত কাজ একা করে নিজের দোজখবাস অনিবার্য করে তুলেছেন, তিনি সেই বইয়ের সংশোধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণও তৈরি করেছেন। সঙ্গে আরও দিয়েছেন অতীব স্পষ্টদর্শন হাই রেজোলুশন পিডিএফ-ও। 


এই কুফরী কিতাবের প্রথম সংস্করণ বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ধর্মকারীতে এমবেড করা কপি কতোজন পড়েছেন, সেই পরিসংখ্যান বের করা সম্ভব হয়নি, তবে এ পর্যন্ত তা ডাউনলোডিত হয়েছে প্রায় তিন হাজার বার! 

বাকি কথা তাঁর মুখ থেকেই শোনা যাক।

এই কুফরী কিতাবের প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল ২০১১ এর জুলাই মাসে। এখন এর সংশোধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ প্রকাশ করা হল। আগের সংস্করণটির কোনো হাই রেজোলুশন ভার্সন ছিল না, এবার প্রথম তা সংযোজন করা হল। প্রয়োজন হলে হাই রেজোলুশন ভার্সনটির ছবিগুলো এক্সট্র্যাক্ট করে নিয়ে নিজের ইচ্ছেমত পরিবর্তন করে তা প্রিন্ট বা অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। নতুন সংস্করণে বেশ কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়েছে। (অধিকতর উপভোগের জন্য সকলকে হাই রেজোলুশন ভার্সনটা ডাউনলোডের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে)। 

প্রথম সংস্করণের সাথে সংযুক্ত হাদিস গ্রন্থ সহিহ বুখারি ও মুসলিমের লিংক পরিবর্তিত হয়ে গেছে (নতুন লিংক বুখারি, মুসলিম)। তাই নতুন ভার্সনে তা পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে। হাদিসের নম্বর দেয়া হয়েছে এরকম: বুখারির ক্ষেত্রে- ক.খ.গ এখানে ‘ক’ হল ভলিউম নম্বর, ‘খ’ হল বুক নম্বর, ‘গ’ হল হাদিস নম্বর। বুখারির হাদিস অন্বেষণের ক্ষেত্রে এই লিংক এ গেলে ১ থেকে ৯৩ পর্যন্ত যে তালিকা পাবেন তা ‘বুক’ এর তালিকা। বুখারিতে সর্বমোট ৯৩ টি বুক ও ৯ টি ভলিউম আছে। তাই আপনারা বুখারির হাদিস অন্বেষণের ক্ষেত্রে সরাসরি ‘বুক’ নম্বর দেখেই তাতে ক্লিক করে ঢুকে পড়তে পারেন।

একটু ব্যাখ্যা করি। যেমন: সহিহ বুখারি এর একটি হাদিসের নম্বর দেয়া হল ৩.৬.৫ অর্থাৎ হাদিসটি পাওয়া যাবে ৩ নম্বর ভলিউমের ৬ নম্বর বুকের ৫ নম্বরে। কিন্তু যেহেতু বুখারি এর লিংকে ‘বুক’ এর লিংকের সারি দেয়া হয়েছে তাই আমরা ভলিউমের কথা না ভেবে বুক নম্বর অর্থাৎ উদাহরণটার ক্ষেত্রে বুখারির লিংকে গিয়ে ৬ নম্বর লিংকে ক্লিক করে ৫ নম্বর হাদিসটি খুঁজব। অতিরিক্ত সহজ জিনিস কতটা জটিল হয়, এবার ভাবুন! মুসলিমের ক্ষেত্রে ভলিউমের বালাই নেই। অর্থাৎ বুক নম্বরে ক্লিক করে খুঁজলেই পেয়ে যাবেন। সেক্ষেত্রে হাদিস নম্বর যদি থাকে ক.খ তাহলে ‘ক’ হবে বুক নম্বর ও ‘খ’ হবে হাদিস নম্বর। হাদিস গ্রন্থ বুখারি ও মুসলিম এর বাংলা অনুবাদ পাবেন যথাক্রমে এই লিংকে ও এই লিংকে। তবে এগুলোতে হাদিস নম্বরগুলো একদম এলোমেলো।

কোরানের বাংলা অনুবাদ পাবেন এখানে। তিনটি ইংরেজি অনুবাদ একসাথে পাবেন এখানে

প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হওয়ার পর কিছু অনভিপ্রেত ঘটনার প্রেক্ষিতে সকলের প্রতি অনুরোধ, এই বই যদি কারো সাথে শেয়ার করতে চান তবে অবশ্যই তা সতর্কতার সাথে ও ভেবেচিন্তে করবেন।

সাইজ: ১০.৭৪ মেগাবাইট
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ)
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স)

নিচে অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শনও প্রকাশ করা হলো।

আরজ আলী মাতুব্বর: সত্যের সন্ধান

প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি থাকলেই কি কাউকে শিক্ষিত বলা উচিত, যদি সে মুক্তচিন্তা করতে না পারে? পাঠ্যপুস্তক পড়ে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করাটাই কি শিক্ষিত হবার পরিচায়ক? যুক্তি-প্রমাণহীন কোনও বিশ্বাস ভেঙে যাবে বলে প্রশ্ন করতে ভীত শিক্ষিত ব্যক্তির শিক্ষার মূল্য কতোটা? নিজের ধারণার পরিপন্থী কোনও সত্যকে অস্বীকার করা ব্যক্তিকে সুশিক্ষিত বলা যাবে কি, যদি তার থেকে থাকে সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও? 

আরজ আলী মাতুব্বর - প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন, তবে স্বশিক্ষিত, সুশিক্ষিত ও কুসংস্কারমুক্ত ছিলেন বলে মুক্তচিন্তা করতে পারতেন। ধর্মীয় রীতিনীতি ও কুসংস্কার বিষয়ে যতো প্রশ্ন এসেছে তাঁর যুক্তিমনস্ক মস্তিষ্কে, তিনি সেসবের উত্তর খুঁজেছেন, বিশ্লেষণ করেছেন, প্রচ্ছন্ন সরস কটাক্ষ করেছেন। তিনি তাঁর লব্ধ জ্ঞান ও নিজস্ব অনুসন্ধিৎসু বুদ্ধিবৃত্তির অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে রচনা করেছেন কয়েকটি বই। তাঁর ভাষাজ্ঞান, রসবোধ রীতিমতো ঈর্ষাজাগানিয়া। 

বাংলাদেশের এই দার্শনিক ও চিন্তাবিদ আরজ আলী মাতুব্বরের জন্মদিন আজ। এ উপলক্ষে তাঁর সবচেয়ে পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ রচনা "সত্যের সন্ধান"-এর ইবুক প্রকাশ করা হচ্ছে আধুনিকতম অবয়বে। বইটির বিভিন্ন অনলাইন ভার্শন বহু বছর ধরে লভ্য হলেও সেটির সবচেয়ে সুদর্শন, সবচেয়ে ঝকঝকে এবং সবচেয়ে দৃষ্টিসুখকর ইবুক ভার্শন প্রকাশ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করাই ছিলো আমাদের উদ্দেশ্য। "নরসুন্দর মানুষ" নামের এক অমানুষ বইটি ইউনিকোডে টাইপ করে হাইলাইট করেছেন বিশেষ অংশগুলো এবং বানিয়েছেন অনিন্দ্যসুন্দর ইবুকটিও। মূল বইয়ে আরজ আলী মাতুব্বর-এর নিজের আঁকা সাদা-কালো কাভারটির চমৎকার "কাভার ভার্শন" করে "কবি" বানিয়েছেন প্রচ্ছদ। নরসুন্দর মানুষ ভূমিকায় লিখেছেন:
প্রতিদিন ১১ কিলোমিটার দূর থেকে হেঁটে বরিশাল লাইব্রেরিতে এসে বই পড়ে আবার সন্ধ্যায় পায়ে হেঁটে বাড়িতে ফিরে যেতেন তিনি; অন্য পাঁচ-দশটা গ্রাম্য শিশুর মতই অতি দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম তাঁর; সামান্য ভিটেবাড়ি ছাড়া উত্তরাধিকার সূত্রে কিছুই পাননি তিনি; বাবাকে হারান শৈশবেই।
পিতৃহীন ‘আরজ আলী মাতুব্বর’ মায়ের ছায়ায় বড় হচ্ছিলেন। বাংলা ১৩৩৯ সনে সেই মাকে হারিয়েও প্রচণ্ড আঘাত পান, আরজ আলী তখন যৌবনে দাঁড়িয়ে; মৃত মায়ের একটি ছবি তোলার অপরাধে মায়ের জানাজা হলো না; এক ধাক্কায় আরজ আলী’র মনন থেকে উঠে আসতে শুরু করলো ধর্ম, দর্শন, সমাজতত্ত্ব, জগৎ ও জীবন নিয়ে নানা জিজ্ঞাসা। প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে লাইব্রেরিতে পড়াশোনা শুরু করেন, কিন্তু তাঁর মনে জেগে ওঠে প্রশ্নের পর প্রশ্ন; আলোড়িত প্রশ্নগুলো লিখে রাখতে শুরু করেন, আর এভাবেই লিখে ফেলেন তার প্রথম বই ‘সত্যের সন্ধান’, এটি বই আকারে প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।
আরজ আলী মাতুব্বর ছিলেন স্বশিক্ষিত বস্তুবাদী দার্শনিক; বিজ্ঞান, ধর্ম, দর্শন, ইতিহাস, সমাজতত্ত্ব সবক্ষেত্রেই ছিল তাঁর আলোকিত পদচারণা, ৮০ তম জন্মবার্ষিকীতে জীবনের সমূদয় উপার্জন দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘আরজ মঞ্জিল পাবলিক লাইব্রেরি’, মানবকল্যাণে নিজ দেহ ও চোখ দান করে গিয়েছিলেন; জ্ঞানার্জনে শিক্ষার কোনো বিকল্প হতে পারে না - এই সত্যটি উপলব্ধি করে আমৃত্যু জ্ঞানান্বেষণে ছুটে বেড়িয়েছেন তিনি।
মানুষের সামাজিক-সাংস্কৃতিক স্বত্তার মূল ভিত্তি হচ্ছে মানবীয় উৎকর্ষতা ও যৌক্তিক-বিশ্লেষণার্থক চিন্তার প্রসারতা। সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত মানুষের চেয়ে তাই আমাদের বেশি প্রয়োজন স্বশিক্ষিত আলোকিত মানুষের। কালের ক্রমবিকাশে লৌকিক স্বশিক্ষিত মানুষেরাই হয়ে দাড়িয়েছেন মহাজাগতিক আলোকবর্তিকা, যাঁরা ছাড়িয়ে গেছেন সময়কে। ‘আরজ আলী মাতুব্বর’ সেই লৌকিক স্বশিক্ষিত দার্শনিক, যাঁর দর্শন এখনো বহুমাত্রিক কুসংস্কারের বেড়াজাল ভেদ করে যৌক্তিক মুক্তির সন্ধান দেয় আমাদের। তাঁর হাত ধরে আজও আমরা খুঁজে নিতে পারি মনুষ্যত্ব, মানবিকতা, বিজ্ঞানমস্কতার উত্তরণ।
‘আরজ আলী মাতুব্বর’-এর ১১৬ তম জন্মদিনে তাঁর প্রশ্নের আলোয় আলোকিত হবার চেষ্টাই হতে পারে আমাদের উত্তরণের ব্রত। শুভ জন্মদিন, অগ্রজ।
এ এমন এক বই, যেটা পড়া না থাকলে অতিঅবশ্যপাঠ্য। এমনকি পড়া থাকলেও বারবার পাঠে বিরক্তি জাগে না একবিন্দু, ম্লান হয় না মুগ্ধতা।

ফরম্যাট: পিডিএফ
সাইজ: ১.৯ মেগাবাইট
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/hGF9xW
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/7vkU7Q

অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শনও এমবেড করা হলো নিচে: